অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

প্রিয়তমা

——অরন্য হাসান দেলোয়ার।

কতটা অযত্নে,অবহেলায় রেখেছিলাম তোমাকে,
ফিরে দেখার সময় হয়নি কখনো;
তোমার কষ্টগুলো কখনো ছুঁয়ে দেখা হয়নি,
দেখা হয়নি তোমার মলিন ধূসর মুখখানা।

অথচ তোমাকে ব্যবহার করেছি নিজের স্বার্থে,
যাচ্ছে তাই ভাবে;
তোমার ভালো থাকার উপর যে আমার ভালো থাকা সেই চিরন্তন সত্যটা ভুলেই গিয়েছিলাম।

তোমার কোমল,নির্মল মোহনীয় রুপের
প্রেমে পড়েই তো এতোটা কাল কাঁটিয়ে দিলাম,
অথচ আমার অবহেলা,অনাদর তোমাকে
তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আজ তার প্রতিশোধ নিলে তুমি!
ঠিক কাজটাই করেছো,
এটাই করা উচিৎ ছিলো।
আজ তুমি ফিরে পেয়েছো তোমার লাবণ্য,
উজ্জ্বলতা,তোমার সেই পুরনো রুপ।

আজ পাখির সুর শুনতে পাই
দু’চোখ মেলে দেখি সুনীল আকাশ,
নির্মল বায়ুর স্পর্শে ফিরে পাই আমার ছেলেবেলা।

তুমি তো আমার সেই ছেলেবেলার প্রেম
আমার ভালোবাসা,
আমার প্রিয় ঢাকা শহর।
ভালো থাকো প্রিয়তমা।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা
তাং ২১/৪/২০২০
সময়ঃ ১১ঃ৪০(সকাল)

অরন্য হাসান দেলোয়ার এর কবিতা

এবারহোকপ্রলয়

——–অরন্য হাসান দেলোয়ার।

চারিদিকে যখন লাশের মিছিল
সারি সারি লাশের সাজানো কফিন,
ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষগুলোর মলিন মুখ
আর চোখের কোনে লোনা জলের বিন্দু
তখনও সংবাদপত্রের হেডলাইন হয়ে আসে
ধর্ষিতার ক্ষত-বিক্ষত নিথর দেহের ছবি!

মানবতার উলঙ্গ এই দৃশ্য দেখে
লজ্জায় নত হয়ে শির,,,,।

সভ্যতার এমন নির্লজ্য রুপ দেখতে হয়,
অসভ্য এক মানবজাতীর অংশ আমি
কলঙ্কের চিহ্ন বয়ে বেড়াই নিত্যদিন।

আর কত ধর্ষিতার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াবে এই দেশ?
যার জন্মই হয়েছে ধর্ষিতার লোনা জলের সিক্ততায়।

হে আমার মাতৃভূমি, আর কত ধর্ষিতার দেহ
বুকে নিলে
প্রলয় জাগাবে তুমি?

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা।
তাং- ১১/০৫/২০২০

Poem

ভালোবাসার_চাষ

——অরন্য হাসান দেলোয়ার।

এখনো তুমি আমার অতটাই কাছে,যতটা কাছে আমার নিঃশ্বাস।

হৃদয়ের গহীন কোনে যেখানে অন্তর,সেইখানে
এখনো তোমার অনুভব সজীব;
আমার শহরে তুমি নেই সে অনেকদিন বছর
তবুও তোমার মুখচ্ছবি আমার চোখে এখনো অমলিন।

আমি প্রতিদিন আমার হৃদয়কে স্পর্শ করি
তোমার স্পর্শ পাই বলে,
উত্তাল প্রেম এখনো বুকের গভীরে ঢেউ তোলে
ভালোবাসার চাষী হয়ে এখন চাষ করে যাই প্রেম।

দু’চোখ মাঝে মাঝে পোড়ে
তোমাকে দেখার প্রবল ইচ্ছের অযুহাতে;
তখন অন্তরের বারিধারা নেমে আসে
শান্ত করে দিয়ে যায় পোড়া চোখের ক্ষত।

তোমাকে অনুভব করি আমার সত্তায়
যেখানে আমার উদার নীল আকাশ হৃদয়
খেলা করে সাদা মেঘমালার সাথে।

কতদিন বছর তুমি নাই আমার শহরে
অথচ তোমার স্পর্শ শহরের প্রতিটি অলিগলিতে
এখনো স্পষ্ট।
“চোখের আড়াল হলে ভালোবাসা মরে যায়”
কথাটা প্রেমিকের নয়-
চোখের আড়াল হলে ভালোবাসা দিগুন হয়
ভালোবাসার চাষ করে হৃদয়।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা।
তাং-২১/৫/২০২০
সময়-রাতঃ ১১ঃ১৬

অরন্য হাসান দেলোয়ার এর কবিতা

এক অন্যরকমঈদের চিঠি

——অরন্য হাসান দেলোয়ার।

কি লিখবো তোমাকে?
প্রযুক্তির এই যুগে এসে চিঠি লেখার অভ্যাসটায় ভীষণ আলসেমি!
তারপরও তোমার চাওয়ার কাছে হই পরাজিত।
কিন্তু লিখতে গিয়ে বড় হিমশিম খাই,
শব্দের বড় সংকটে আছি আজকাল।

কভিড-১৯ অদৃশ্য এক ঘাতকের কাছে পরাজিত
আমরা ঘরবন্দী,
দুরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে প্রিয়জন থেকে দূরে
এ এক অন্যরকম সময় কাটিয়ে
দরজায় এলো পবিত্র রমজান মাস;
সময়ের স্রোতে রমজানও বিদাল নিলো
আনন্দময় এক ঈদ নিয়ে এলো ভীষণ কষ্টের
এক অনুভূতির ছোঁয়া হৃদয় জুড়ে।

প্রিয়তমা আমার,
প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে,
মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে। তারপরও
মানুষ নির্লিপ্ত নির্ভার এবং বড়ই অবুজ;
ঈদ শপিং করতে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের
সাথে করে বাবা মায়ের শপিং করা
ভীড় ঠেলে নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরা
আর যুবকদের মটর সাইকেল শো…
ভীষণ অদ্ভুত এক জাতি আমরা!

ঈদের সকালে মাস্ক বিহীন নামাজ পড়া
ঘুড়ে বেড়ানো এ এক অন্যরকম দৃশ্য;
মনে হলো যেন সব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।
কিছুক্ষণের জন্য হলেও আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিলো আমার মন।
কিন্তু কভিড ১৯ এর প্রতিদিনের আপডেট শুনে
বাস্তবতায় ফিরে এসেছি।

প্রিয়তমা আমার,
পৃথিবীর বুক জুড়ে মানুষের লোভ লালসা
আর ক্ষমতার দম্ভে যে রক্তের সাগর বয়ে গিয়েছিলো
তার চাইতে এই কভিড ১৯ কি বেশি মারাত্মক?
এখন প্রতিদিন লাশের সংখ্যা গুনে রাখি,
তর্ক-বিতর্কে সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করি,
অথচ,ইয়েমেন,ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইরাক,লিবিয়া,সিরিয়ায় প্রতিদিন যে লাশের মিছিল হতো
তা কয়দিন গুনে বলেছিলো কেউ?
সেই লাশের সংখ্যাটা কারো কাছে লেখা আছে?

প্রিয়তমা আমার,
রক্তাক্ত নিথর দেহ নিয়ে পড়ে থাকতো যে বোন
ধর্ষিতার কলঙ্ক নিয়ে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে
আত্মহননের পথ বেঁছে নিতো যে কিশোর মেয়েটি
তার সংখ্যা কতজন লিখে রেখেছে, কবে?

ধর্মের অবমাননার গুজব ছড়িয়ে যে দাঙ্গার আগুনে পুড়ে যেতো অসংখ্য ঘর,
অকালে চলে যেতো যে মানুষগুলো
পুড়ে যেতো যে স্বপ্ন,তার সংখ্যা কি মনে আছে?

প্রিয়তমা আমার,
আমি তোমাকে কি লিখবো? পবিত্র রমজান মাসের কভিড ১৯ এর আক্রমণে যখন দিশেহারা
ইয়েমেনের সাধারণ মুসলিম,
তখন সৌদি আরবের বিমান হামলায় প্রাণ হারায়
হাজার হাজার ইয়েমেন নিরিহ মুসলমান।
আমি ইয়াজুজ-মাজুজ আর দাজ্জালের প্রতিচ্ছবি
দেখতে পাই মানুষের অবয়বে।
আমি তো শুনতে পাই কেয়ামতের আগমনী সুর।

প্রিয়তমা আমার,
এ এক অন্যরকম ঈদ,দুর থেকে ভালোবাসার
হৃদয় দিয়ে অনুভব করার এক ঈদ।
তোমাকে কিছু লিখতে না পারার অপরাধের দায় নিয়ে বলছি- ভালো থেকো,,,,ঈদ মোবারক।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা।
সময়ঃ ৩-৫২
তাং ২৫/৫/২০২০