অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

আর্জি

——–অরন্য হাসান দেলোয়ার।

আমি লজ্জিত আমার কর্মে
অন্ধকারে আছি নেই তো ধর্মে,
হে খোদা তুমি পথ দেখাও মোরে
আমার সেজদা নাও কবুল করে।

কথায় কথায় হয়ে যায় পাপ
তোমার দরবারে চাইছি মাফ,
পথের দিশা দাও তুমি ঠিক করে
এখনো রয়েছি খোদা বহুদূরে।

আমার চোখের জল কবুল করে নাও
আমায় তোমার নূরে আলোকিত করে দাও,
তোমার রহমতের ছায়া তুলে নিও না খোদা
আমি তোমার দরবারে গুনাহগার এক বান্দা।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা।
তাং -৩০/৫/২০২০

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

আজকের_লেখা

——–অরন্য হাসান দেলোয়ার।

কবিতা লিখবো?কি নিয়ে?
বস্তি পুড়ে ছাই,দেখার কেউ নাই,
করোনার আতঙ্ক পিছু ছাড়ে নাই।
লুটপাট চারদিকে টাকার খনি দেশ,
কারো পেটে ভাত নাই,কেউ আছে বেশ।
এই নিয়ে লিখবো?জেল হয়তো খাটবো।

কবিতা লিখবো?কোন বিষয় ধরবো?
রাস্তায় রোজ রোজ,কতজন মরছে,
কে রাখে কার খোঁজ,ভেজালে ধুকছে।
কার কি দায়িত্ব,কেউ তা জানে না,
মাস গেলে বেতনটা,কেউ তো ছাড়ে না।
এই নিয়ে লিখছি,চারদিক দেখছি।

কবিতায় কি আনি,আমি কি সব জানি?
রাতদুপুরে চারদেয়ালে,কত কি ঘটছে
কেউ নেশার খেয়ালে,কেউ মজা লুটছে।
সাধু বেশে চোর সব,চারদিকে ঘুরছে,
কার পকেট কে কখন,পরিস্কার করছে।
ব্যাংক সব দেউলিয়া,নোট সব গায়েব
তারা এখন সমাজে,বিরাট লাট সাহেব।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
১১/৩/২০২০
সময়,রাত-২ঃ৩৬

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

তবুওতো প্রেমিক_ছিলাম

অরন্য হাসান দেলোয়ার

যখন আমার মৃত্যু হবে
সব ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে ঠিক চলে যাবো,
এলোমেলো শব্দগুলো
আমার লেখার খাতার পাতা
উষ্কখুষ্ক উড়নচণ্ডী স্বভাবের কিছু স্মৃতি চিহ্ন
থাকবে পড়ে ধুলোর উপর;
তখন তুমি ঠিকই কাঁদবে।
আমার লেখা কবিতার খাতা বুকের মাঝে
শক্ত করে আঁকড়ে ধরে
চোখের উষ্ণ লোনা জলে ঠিকই ভাসবে।
সেদিন তুমি ঠিকই কাঁদবে।

যখন আমার মৃত্যু হবে
চলে যাবো দূরে বহুদূরে তোমার স্পর্শের বাইরে,
সেদিন তোমার পড়বে মনে
কথা দিয়েছিলে আমার শার্টের কলার চেপে
থাকবে আমার হৃদপিণ্ড হয়ে
আমার বুকের গহীনে আমার শরীরের অংশ হয়ে।
তারপর মাত্র কয়েকটা মাস পর
অন্য কেউ তোমর বর,আমি ভীষণ রকম পর।
কেমন করে হয়রে এসব?
কেমন করে ভুলে যাওয়া যায়?
এখনো তো তোমার সে আক্রমণাত্মক প্রেম
আমার বুকে যন্ত্রণার দামামা বাজায়।

যখন আমার মৃত্যু হবে
মাটির বুকে ছোট্ট ঘরে থাকবো শুয়ে একা
সেদিন তোমার পড়বে মনে
আমিই ছিলাম তোমার প্রিয়জন
আজকে যখন শুনতে পাই তুমি ভীষণ রকম একা।
তোমার বিয়ে করা বর,
অন্য কোথাও অন্যের সাথে বেঁধেছে আবার ঘর।
তুমি ভীষণ রকম বোকা
প্রেম কাহাকে বলে,প্রেমিক কেমন হয়?
আজও তোমার হয়নি তো জানা।
আমি না হয় উড়নচণ্ডী ছিলাম
অগোছালো না হয় ছিলো আমার জীবন
তবুও তো প্রেমিক ছিলাম
বুকের ভিতর ভালোবাসার খনি রেখেছিলাম।

স্বত্ব সংরক্ষিত
গেন্ডারিয়া, ঢাকা।
১০/১২/২০১৯
সময়ঃ রাত ৭ঃ৫১

ছোট গল্প,

পাপ

——-অরন্য হাসান দেলোয়ার

আমার পরিবার ধার্মিক। ধর্মের অনুশাসন মেনে চলার বিষয়ে বাবা মা খুবই কঠোর।আমরা তিন ভাই বোন।আমার বড় ভাই প্রফেসর।আমার বোনের বিয়ে হয়েছে একজন আলেমের সাথে।
আমি মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।

আমার বাবা সরকারি চাকরি করেন।মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি মানুষ আমার বাবা।আমাদের পরিবারের সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি।

ঢাকায় আমাদের বেশ কয়েকটি বাড়ি রয়েছে।গ্রামেও অনেক সম্পদ আছে আমাদের।বেশ কয়েকবছর আগে বাবা আমাদের গ্রামে মসজিদ নির্মাণ করেছেন।একটি মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করেছেন।ইসলামী অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়েছি।বাবা,বড় ভাই,আমার আলেম দুলাভাই যা বলতেন তা একবাক্যে মেনে নিতাম।
মাদ্রাসার শিক্ষকগণ ছিলো আমার আদর্শ।খুব ভালোই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিলো।

একদিন বাবাকে দুদকের লোকজন ধরে নিয়ে গেলো।ভীষণ কষ্ট পেলাম।আমার আলেম দুলাভাই বাবার পক্ষে জনমত তৈরি করলেন।গ্রামের লোকজনও ক্ষেপে উঠলো।আমার বাবাকে সবাই শ্রদ্ধা করতেন।সবাই খুব ভালো পরহেজগার মানুষ হিসাবেই চিনতেন জানতেন।

চারদিকে প্রতিবাদের ঢেউ আঁছড়ে পড়তে লাগলো।আমার বাবার প্রতিষ্ঠা করা মাদ্রাসার ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসলেন।পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হলো। বেশ কয়েকজন আহত হলেন দু’পক্ষে।

আমি কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না।বাবাকে জেলে পাঠানো হলো।বাবার নামে মামলা হলো অবৈধ অর্থ উপার্জনের।ধীরে ধীরে তদন্তে বেড়িয়ে এলো আমাদের সকল সম্পত্তি বাবার ঘুষ আর দুর্নীতির টাকায় অর্জিত।গ্রামের মসজিদ,মাদ্রাসা সব বাবার অবৈধ টাকায় করা।
আমার দাদা সামান্য একজন কৃষক ছিলেন।তার ভিটে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই ছিলো না।অনেক কষ্ট করে লজিং থেকে আমার বাবা পড়াশোনা করেছিলেন।

এইসব কিছু জানার পর আমি ক্রমশ বদলে যেতে থাকি।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আমার জীবন থেকে হারিয়ে যায়।আমি হয়ে যাই ভীন্ন জগতের এক বাসিন্দা।যে বন্ধুদের সাথে আড্ডা,চা সিগারেট আর মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে সারাক্ষণ। এতদিন যা শিখলাম, জানলাম এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেলো।
বাবার হারাম আয়ের খাদ্যদ্রব্যে বেড়ে উঠেছে আমার এই শরীর।আমার শরীরকে ঘৃণা করতে শুরু করলাম।ইচ্ছে করছিলো সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেই।

আমার প্রফেসর ভাই মাকে নিয়ে চলে গেলেন গ্রামে।আলেম দুলাভাই এখন প্রতিদিন আমার বোনকে গালাগালি করেন।অত্যাচার করেন।নতুন আর একটি বিয়ে করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আমি মেসের জীবন বেছে নিয়েছি।প্রাইভেট পড়িয়ে যা পাই তা দিয়ে চলে যায় আমার জীবন।
বাবার কথা,পরিবারের কথা ভুলে গিয়েছি।মাঝে মাঝে বোনের খবর পাই।বাবার অপরাধে আলেম দুলাভাই বোনকে খুব অত্যাচার করে।

একদিন খবর এলো আমার বোন আত্মহত্যা করেছে।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা।
২৮/৫/২০২০.

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

জীবনের নাম দিয়েছি মৃত্যু

——–অরন্য হাসান দেলোয়ার।

হাঁটতে হাঁটতে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাই,
যতো হাঁটি ততোই মৃত্যু কাছে এসে দাঁড়ায়।
জীবনের অন্য নাম দিয়েছি মৃত্যু।
জীবনের সকল আয়োজন থমকে যাবে,
অপূর্ণ থেকে যাবে অনেক ইচ্ছে
পোড়া চোখ তাকিয়ে দেখবে মৃত্যুর আলিঙ্গন।
তাই আমি,জীবনের নাম দিয়েছি মৃত্যু।
আলিশান জীবন যাপনের যে চেষ্টা
সম্পদের পাহাড় গড়ার যে নেশা
সব একদিন মুখ থুবরে পড়বে।
খালি হাত পা নিয়ে ফিরে যাবো
অনন্তের পথে।
তাই আমি,জীবনের নাম দিয়েছি মৃত্য।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া,ঢাকা।
১২/৩/২০২০
সময়ঃরাত-৩ঃ৫৫

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

সবাই চলে যায়
অরন্য হাসান দেলোয়ার

কেউ একজন বলেছিলো
বিশ্বাস করো আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি
সারাটা জীবন তোমার ওই শক্ত হাতের মুঠোয়
আমার নরম হাত দুটো রাখবো যতন করে।
সে আজ অনেক দূরে
অন্য কারো সংসারে অন্য কারো হাতে তার হাত।
এভাবেই বিশ্বাসে’রা একদিন চলে যায়
একাত্তরের যুদ্ধের সময় যেমন গিয়েছিলো
আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক রমাকান্ত বিশ্বাস।
বিশ্বাসে’রা এভাবেই যায়।
তারপর জীবনের পনেরোটি বসন্ত চলে গেলো
চলে গেছে আরো কত কি,
বাড়ির সামনের সেই মসজিদটি
যেখান থেকে প্রতিভোরে ভেসে আসতো
মুয়াজ্জিনের সুমধুর কন্ঠস্বর-আল্লাহু আকবর।
একদিন নদীর প্রবল স্রোতের ভাঙ্গনে
মসজিদটিও চলে গেলো।
এখনো যখন ক্রিকেট খেলা দেখি
খুব মনে পড়ে স্কুলের প্রিয় বন্ধু সুকান্তের কথা
কি দুর্দান্তই না খেলতো,
আমাদের ক্রিকেট টিমের দলনেতা ছিলো ও।
সুকান্ত বলতো একদিন আমাকেও দেখবি
টেলিভিশনের ভিতরে আমি খেলছি।
না সুকান্তের টেলিভিশনের ভিতরে খেলা হয়নি
একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে
বাসের ধাক্কায় চলে গিয়েছিলো ভগবানের কাছে,
আর ফিরে আসেনি সুকান্ত।
এভাবেই যায়, সবাই চলে যায়,
সবকিছু চলে যায়
শুধু আমার যাওয়া হয়না কোথাও।
কেউ এসে আজ আর বলেনা
বিশ্বাস করো-আমি আছি থাকবো।

১৫/০৩/২০১৯
স্বত্ব সংরক্ষিত ©
গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

ধর্মের_মহত্ত্ব

——– অরন্য হাসান দেলোয়ার।

ভোরের ক্ষুধার্ত পাখি সন্ধ্যায় ফিরে আসে নীড়ে,
স্রষ্টার রিযিকে তার ক্ষুধা নিবারণ করে
শুকরিয়া আদায়ে শুরু হয় তার রাত।
প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সে টিকে থাকে
স্রষ্টার অশেষ রহমতের ছায়ায়।
এর থেকে জ্ঞানিদের জন্য রয়েছে নিদর্শন।

তুমি সততার পথে স্রষ্টার এবাদতে মশগুল
থাকো,
নিশ্চয়ই তোমার স্রষ্টা তোমাকে ক্ষুধার্ত রাখবেন না।
পথের ধুলোয় পড়ে থাকা অসহায়ও বেঁচে থাকে,
তারও আহার জোটে,
এবাদতহীন বান্দারও পেট ভরিয়ে স্রষ্টা
রহমতের নজির স্থাপন করেন;
এর ভিতরেও স্রষ্টা জ্ঞানিদের জন্য রেখেছেন নিদর্শন।

তাই পুজা করেনি,নামাজ পড়েনি বলে
যাকে দূর ঠেলে দাও,
কখনো জানতে চেয়েছো স্রষ্টা তাকে আহার করিয়েছেন কোন কারনে?
তুমি মানুষ শুধু এবাদত করাই তোমার কাজ
অন্য কে স্রষ্টাকে ডাকলো,
কে ডাকলো না
তার কৈফিয়ত চাওয়ার অধিকার স্রষ্টা তোমাকে দেন নি।

ধর্ম তোমার জীবনের প্রয়োজনে এসেছে,
কারো জীবন নেবার জন্য ধর্ম নয়।
ধর্মের মহানুভবতা না শিখে
তুমি শিখেছো কিছু স্রষ্টার এবাদত করার কৌশল,
যার ব্যবহার তোমার পোশাকে,
আচরণে ধর্মের কোন কৌশল তুমি প্রয়োগ করতে শিখনি।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা।
৩/৩/২০২০

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

ইচ্ছেগুলোতোলাথাক

—–অরন্য হাসান দেলোয়ার।

আজকে বছরের এই প্রথম দিন
না হয় কাটুক দরজার খিল এটে
জানালার গ্রীলের ফাঁক গলে
দেখবো নীল আকাশে মেঘের উড়ে যাওয়া।

যদি বেঁচে থাকি,
আবার না হয় হাঁটবো সবুজ ঘাসের পরে
শিশির জলে পা ভিঁজিয়ে
নদীর পাড়ে বালির বুকে আঁকবো নতুন
পায়ের পাতার চিহ্ন;
ক্লান্তি এলে জিড়িয়ে নিবো
বট হিজলের ছায়াতলে,
পাখির কলকাকলীতে খুঁজে নিবো
বউ কথা কও পাখির ডাক,
সেই দিনটির জন্য না হয়
আজকের সব ইচ্ছগুলো তোলাই থাক।

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাক।
সময়ঃ ১২ঃ১৬
তাং ১৪/৪/২০২০

অরন্য হাসান দেলোয়ারের কবিতা

প্রেম_অবগাহন

——অরন্য হাসান দেলোয়ার।

রিমঝিম রিমঝিম ঝরছে শ্রাবণ,
চকিতে চমকিয়ে উঠে আমার এই মন,,
কে জেনো ডাকিছে নাম ধরে হায়,
কাঁপছে দুরুদুরু বুক অজনা আশংকায়।

এমন ভেঁজা মৌসুমে ভিজে যায় মন,
প্রেম সুধা গোপনে করে যায় আলাপন
নুপুরের ঝংকার বাজে বুকের গহীনে
মাতাল হাওয়ার মতো দোলায় গোপনে।
খুঁজে যায় তারে অশান্ত দু’নয়ন,,,,
রিমঝিম রিমঝিম ঝরছে শ্রাবণ।

কি এক মোহ আবেশে পড়ে আছি আমি
জানিনা কে সে আমার মন করেছে চুরি,
অজানা এক ভালোলাগা ঘিরে আছে সারাক্ষণ,
কবে হবে দেখা তোমার সাথে বলো প্রিয়জন।
রিমঝিম রিমঝিম ঝরছে শ্রাবণ…..

স্বত্ব সংরক্ষিত।
গেন্ডারিয়া ঢাকা
তাং-১৮/৪/২০২০
রাত-৩ঃ৪৫